Home » , , » বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনি | Biography of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনি | Biography of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman

Written By Unknown on শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৩ | শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৩

Sheikh Mujibur Rahman

নামঃ শেখ মুজিবুর রহমান (ডাক নামঃ খোকা)।

জন্মঃ ১৭ মার্চ, ১৯২০ (২০ চৈত্র, ১৩২৭)

মৃত্যুঃ ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ ।

জন্মস্থানঃ টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।

পিতাঃ শেখ লুৎফর রহমান (গোপালগঞ্জের দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার (হিসাব রক্ষক) ছিলেন )

মাতাঃ মোসাম্মৎ সায়েরা খাতুন

ভাই-বোনঃ ৪ বোন ও ২ ভাইয়ের (৫ ভাই-বোন) মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান ।

স্ত্রীঃ বেগম ফজিলাতুন্নেছা ।

ছেলে-মেয়েঃ ২ মেয়ে [শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা] এবং ৩ ছেলে [শেখ কামাল, শেখ জামান, শেখ রাসেল- সবাই মৃত]

লেখাপড়া করেনঃ গিমাডাঙ্গা-টুঙ্গিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদারীপুরের ইসলামিয়া হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুল, কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ [বর্তমানে মাওলানা আজাদ কলেজ], ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ।

যেসব কারণে বিখ্যাতঃ ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতা আন্দোলন, বাঙালি জাতির জনক, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ।

১৯২৭ – গিমাডাঙ্গা-টুঙ্গিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন ।

১৯৩১- মাদারীপুরের ইসলামিয়া হাইস্কুলে ভর্তি হন । এই স্কুলে থাকা কালীন তিনি বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হন । পরে তাকে কলকাতায় চিকিসা করানো হয় । পরবর্তিতে তিনি গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন ।

১৯৩৮- ১৮ বছর বয়সে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেন চাচাতো বোন ফজিলাতুন্নেসাকে (ডাক নাম - রানু) ।

১৯৩৯- ইংরেজ বিরোধী  আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে অভিষেক ।

১৯৪০ – নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং এক বছরের জন্য কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ।

১৯৪২- কৃতিত্বের সাথে প্রবেশিকা (এস. এস. সি. সমামানের) পরীক্ষায় পাস করেন ।  এরপর তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হন । সেখানে তিনি বাকের হোস্টেলে লজিং থাকতেন ।

১৯৪৩ – বেঙ্গগল মুসলিম লীগে যোগ দেন । এসময় তিনি মুসলিম নেতা হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন । বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ।

১৯৪৪- আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষেক । “ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়শন” [তকালীন কলকাতায় অবস্থানকারী ফরিদপুর বাসীদের সংগঠন] এর সেক্রেটারি মনোনীত হন ।

১৯৪৬ – ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ।

১৯৪৭ – কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন । দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও মুসলমানদের রক্ষায় কাজ করেন ।

০২ মার্চ, ১৯৪৮ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে খাজা নাজিমউদ্দিন কর্তৃক উর্দকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণার প্রতিবাদে সর্বদলীয় সম্মিলনে অংশগ্রহণ করেন । এখান থেকে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় ।
Sheikh Mujibur Rahman  with  his parent & wife

১১ মার্চ, ১৯৪৮ – পরিষদ কর্তৃক ধর্মঘট পালিত হয় । শেখ মুজুবকে সচিবালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার করা  হয় কিন্তু প্রিতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় । ছাড়ার পর তিনি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের র‍্যালিতে সভাপতিত্ব করেন । পুলিশ র‍্যালিতে বাধা দিলে ১৭ মার্চ দেশব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা দেন ।

১৯ মার্চ, ১৯৪৮ -  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন শুরু করেন । এর প্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত করা হয় । উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয় ।

২১ জানুয়ারি, ১৯৪৯ – জেল থেকে মুক্তি পান । পুনরায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দাবী আদায়ে আন্দোলন শুরু করেন ।  ১৯৪৯ সালে তিনি আরও কয়েকবার আটক হন  এবং ছাড়া পান ।

১৯৪৯- আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ন সম্পাদক নির্বাচিত হন ।

জানুয়ারি, ১৯৫০ – দুর্ভিক্ষ বিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে আটক করা হয়  এবং দুই বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয় ।

১৯৫২ – জেল থেকে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন । এরই প্রেক্ষিতে তিনি ১৪ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৩ দিন অনশন করেন । পরে ২৬ ফেব্রুয়ারী তাকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় ।

৯ জুলাই, ১৯৫৩ – পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (মহাসচিব) নির্বাচিত হন ।

১৫ মে, ১৯৫৪ – ১০ মার্চের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে বিজয়ী হবার পর তাকে কৃষি ও বন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় । সরকার ১৯ মে যুক্তফ্রন্ট ভেঙ্গে দেয় । ৩০ মে তাকে করাচি থেকে ফেরার পথে আটক করা হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর ছেড়ে দেওয়া হয় ।

১৯৫৪ – পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ।

৫ জুন, ১৯৫৫ – দ্বিতীয় গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ।

১৭ জুন, ১৯৫৫ – পল্টন ময়দানের সমাবেশে ২১ দফা দাবী পেশ করেন ।

২১ অক্টোবর, ১৯৫৫ – বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে “মুসলিম” শব্দটি বাদ দেওয় হয় । এই অধিবেশনি তিনি আবার মহাসচিব নির্বাচিত হন ।

১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৬ – পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দফতরের মন্ত্রী  হন ।

৩০ মে, ১৯৫৭ – দলে সময় দেবার জন্য মন্ত্রী পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন ।

৭ অক্টোবর, ১৯৫৮ – সামরিক আইন জারি করা হয় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয় । এরই প্রেক্ষিতে ১১ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করা হয় ।

১৯৬১ – উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে জেল থেকে ছাড়া পান । গুপ্ত রাজনৈতিক তপরতা শুরু করেন ।

০৬ ফেব্রুয়ারী, ১৯৬২ – জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন ।

১৮ জুন, ১৯৬২ – চার বছর ব্যাপী মার্শাল ল বাতিল হবার পর জেল থেকে ছাড়া পান ।

২৫ জানুয়ারী, ১৯৬৪ - আওয়ামী লীগের মহাসচিব হন ।

০৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ – ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবী উপস্থাপন করেন ।

০১ মার্চ, ১৯৬৬ – আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ।

০৮ মে, ১৯৬৬ – তাঁকে আবার গ্রেফতার করা হয় । উল্লেখ্য, এই বছরের প্রথম তিন মাসে তাঁকে আটবার আটাক করা হয় ।

০৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮ – দুই বছর জেলে থাকার পর “আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার” আসামি করা হয় ।

২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ – ব্যাপক গণআন্দোলনের ( ঊনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত ) মুখে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হয় ।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ – রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত লাখ মানুষের সম্মিলনে তাজউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত হন ।

০৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ – পূর্ব পাকিস্থানকে “বাংলাদেশ” হিসেবে নামকরণের ঘোষণা দেন ।

০৩ মার্চ, ১৯৭১- “জাতির জনক” হিসেবে ঘোষণা করা হয় ।

Sheikh Mujibur Rahman
১৯৭০ – নির্বাচনে মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে । সরকার গঠনে বিলম্ব করায় তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন ।

৭ মার্চ, ১৯৭১ – রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষাণ । এটিকে স্বাধিনতা সংগ্রামের ঘোষণা ও আহবান বলা হয় ।

২৩ মার্চ, ১৯৭১ – নিজ হাতে বাংলাদেশের পতাকা উড়ান ।

মধ্যরাত, ২৫ মার্চ, ১৯৭১ – বঙ্গবন্ধু জারি করেনProclamation of Independence of Bangladesh”

২৬ মার্চ, ১৯৭১ – স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষণা দেন । তাকে গ্রেফতার এবং বন্দি অবস্থায় পাকিস্থানের করাচিতে স্তানান্তর করা হয় । তিনি পাকিস্থানের পাঞ্জাব প্রদেশের রায়ালপুর জেলার মিয়ানওয়ালি কারাগারে ২৮৮ দিন বন্দি ছিলেন । 

২৬ মার্চ মুজিব কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা

"This may be my last message, from today Bangladesh is independent.
I call upon the people of Bangladesh, wherever you might be and whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved."

Sheikh Mujibur Rahman
26 March 1971

০৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ – দেশদ্রোহী আক্ষা দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা ।

০৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ – পাকিস্থানের কারাগার থেকে মুক্তি  পান ।

১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ – স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন ।

১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ – বাংলাদেশের প্রাধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ।
এসময় তিনি সংবিধান প্রণয়ন, মিত্র বাহীনিকে ফেরত পাঠানো, জাতিসংঘের সদস্য পদ প্রাপ্তি, ভারতের সাথে ২৫ বছর মেয়াদী মৈত্রি চুক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা জাতীয়করণ, ভূমি পূনর্বণ্টন, শরণার্থী পূনর্বাসন, শিক্ষা-স্বাস্থ-খাদ্য-বিদ্যু নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ সহ অনেক কার্যক্রম হাতে নেন ।

ইসলামি গোত্রগুলোর চাপ থাকায় তিনি ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ইসলামি অনুশাসন পালন করেন । ইসলামি একাডেমি পুনরায় চালু করেন, মদ তৈরি-বিপণন নিষিদ্ধ করেন, জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করেন, OIC IDB তে যোগদান করেন, ইসলামিক সম্ভাষণ বাড়িয়ে দেন ।

নব্য স্বাধীন দেশে তাঁর সরকার অদক্ষতা, মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি, দুর্বল নেতৃত্ব, স্বজনপ্রীতি, উচ্চ দ্রব্যমূল্য, সহ আরও অনেক সমালোচনার মুখে পড়ে ।

Sheikh Mujibur Rahman
২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ – জরুরি অবস্থা জারি করে সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ৪ টি বাধে সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করেন ।সংবিধানের চুতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হন । তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকেরা একত্রিত হয়ে  বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামের রাজনৈতিক দল গঠন করে । এসময় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার, রক্ষী বাহিনী কর্তৃক অত্যাচার ও হত্যার ব্যাপক অভিযোগ উঠে ।

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ -  সেনাবাহিনীর কতিপয় তরূণ অফিসার কর্তৃক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বপরিবারে (শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান ) নির্মমভাবে হত্যা করা হয় । ১৬ আগস্ট সেনাবাহিনী তার লাশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায় । সেখানে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয় ।

২০০৪ - বিবিসি বাংলা সার্ভিসের শ্রোতা জরিপে নির্বাচিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ বাঙালির তালিকায় প্রাথম স্থান লাভ করেন ।

তথ্য সূত্রঃ

Share this article :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Support : Bangla Biography | Palash Template | Bangla Biography
Copyright © 2013. বিখ্যাত ব্যাক্তিদের জীবনি - All Rights Reserved
Template Created by Bangla Biography Published by Bangla Biography
Proudly powered by Blogger